এখন সমাজে যখন অবিশ্বাস, ভুল-বোঝাবুঝি ও শ্রেণীঘৃণার একটা বাতাবরণ তৈরি হয়ে আছে স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, তখন এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে প্রয়োজন অপরকে হৃদয়ের থেকে গ্রহণ করা। স্বার্থপরতার প্রহরেই সবচেয়ে প্রয়োজন পরার্থপরতার একটা বাতাবরণ নির্মাণের। বর্তমানে সমাজে আদর্শহীনতার একটা ক্ষয়রোগ চলছে। সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো, অন্যকে বুঝতে না পারা বা বুঝতে চেষ্টা না করা। চোখ মেলে অন্য সমাজের সমস্যা, সুখ-দুঃখ বোঝার প্রয়াস না হলে যৌথ সমাজ টিকবে না। পরস্পরকে জানার, বোঝার ও সম্মান জানানোর যে দৃষ্টিভঙ্গি, তাকে মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত করতে হবে। পরস্পরকে জানার মধ্যেই তো রয়েছে সংহতির বীজ। আত্মপরিচয়ের সন্ধান আর জাতীয়তাবাদকে পাশাপাশি রেখে আজকের দিনে পথে চলাটাই যুক্তিসঙ্গত। বর্তমানে যুক্তিতর্কের আসরে কে কাকে নস্যাৎ করবেন, খন্ডন করবেন কিংবা জোর করে নিজের মতবাদ অন্যের উপর চাপিয়ে দেবেন, তার প্রতিযোগিতা চলে। আমরা ভুলে যাই, একজনের মতবাদ অন্যের ধ্বংসের কারণ হতে পারে, কোন মতবাদ জোর করে চাপিয়ে দিলে আরো সামাজিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। কারণ মতবাদ-এর চেয়ে বড় হল মানবিক মূল্যবোধ। বহু আশা ও নৈরাশ্যের ইতিহাস, বহু মতবাদের ধ্বংসস্তূপ অতিক্রম করেও কিন্তু থেকে যায় কিছু মূল্যবোধের উত্তরাধিকার। আমরা যে কোন জাতি অথবা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হই না কেন, তাকে উন্নত করে তোলা যাবে না আত্ম-সংকোচনের পথে। বৃহত্তর কিছুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তবেই সম্ভব তার বৃদ্ধি ও বিকাশ। আমাদের জাতীয় সংহতিকে রক্ষা করার জন্য তাই সব উপায়-এর সঙ্গে যোগ করতেই হবে মূল্যবোধের শিক্ষাকে।



