নিজেকে নম্র করার মাধ্যমেই আসলে প্রকৃত বড়দিন উদযাপন করা যায়

  • January 2, 2026
  • Comment 0

অন্যান্য বরেণ্য মহামানবদের মত, যীশুখ্রীষ্টও পৃথিবীর মানুষকে বড় হয়ে ওঠার, ভালোবাসার মন্ত্র দিয়েছিলেন। তিনি সমাজের যারা ছোট, যারা সবার নিচে, দলিত, অত্যাচারিত, উৎপীড়িত, তাদের মুক্তির দূত হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সাম্য-অবতার যীশুখ্রীষ্ট বলেছিলেন, সকল মানুষ ঈশ্বরের চোখে সমান। বরং যে পীড়িত, দুঃখী, সেই ঈশ্বরের অধিক প্রিয়।

ক্রিশ্চান যাজকেরা একদিন, এক নারীকে পাথর ছুড়ে মারছিলো। যীশু তাদের প্রতিরোধ করে বলেছিলেন, “তোমাদের মধ্যে জীবনে যে কখনো অন্যায় করেনি — সেই প্রথম পাথর ছুড়ুক।” সেদিন সবাই একে একে মাথা নত করে চলে গিয়েছিল। অনুতপ্ত মেয়েটি সেদিন অন্তর দিয়ে অনুভব করেছিল ভালোবাসার স্পর্শ। ভালোবাসার অহংকার মানুষকে কাছে টানে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘বড়দিন’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “আজ পরিতাপ করবার দিন, আনন্দ করবার নয়। আজ আমাদের উদ্ধত মাথা ধুলায় নত হোক, চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যাক। বড়দিন নিজেকে পরীক্ষা করবার দিন, নিজেকে নম্র করবার দিন।” বিশ্বকবি আরো বলেছেন, “যেদিন সত্যের নামে ত্যাগ করেছি, যেদিন অকৃত্রিম প্রেমে মানুষকে ভাই বলতে পেরেছি, সেদিনই যীশু আমাদের জীবনে জন্মগ্রহণ করেছেন। সেই দিনই প্রকৃত অর্থে বড়দিন।” আমার মনে হয়, প্রকৃত আনন্দ আছে আত্মত্যাগের জীবনব্রতে। অন্যের জীবনে আনন্দ দান করে, তবেই নিজের জীবনে সত্যিকারের প্রকৃত আনন্দ অনুভব করা যায়। নিজেকে নম্র করার মাধ্যমেই আসলে প্রকৃত বড়দিন উদযাপন করা যায়। বড়দিন শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, আত্মসমীক্ষার দিনও। মানব-মুক্তির দিন হিসাবেও বড়দিন সর্বতোভাবে সার্থক। প্রেমের রাজা যিশু স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে দিয়ে, মানুষে মানুষে সেতুবন্ধনের প্রতীক হয়ে আমাদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Call Us Now
WhatsApp